ভালুকায় স্কুলের নির্মাণ সামগ্রী বিক্রি নিয়ে বিতর্ক
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-11-03 07:27:49 · স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী বিক্রি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক লাখ টাকা মূল্যের ইট, খোয়া, রড, কাঠ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী যথাযথ নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মাত্র ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ইট, বালু, রড, কাঠসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী কেনা হয়। নির্মাণকাজ শেষে কিছু মালামাল অতিরিক্ত ও অব্যবহৃত থেকে যায়। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মানিকসহ কয়েকজন শিক্ষক এসব মালামাল একত্রে প্যাকেজ আকারে বিক্রির উদ্যোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের এসব মালামাল কোনো প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিকের কাছে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদের কাজে ব্যবহারের জন্য এসব মালামাল কিনতে চাইলে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মালামাল ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। পরে পূজার ছুটির আগের দিন সন্ধ্যায় খোয়া ও রড বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব মালামাল পাশের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কালাম খান গণমাধ্যমকে বলেন, এখানে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার মালামাল ছিল। স্কুলের শিক্ষকরা কীভাবে এসব মালামাল বিক্রি করলেন, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। কমিটির রেজুলেশন ও নিলামের মাধ্যমে মালামাল বিক্রির নিয়ম রয়েছে। আমি বিষয়টির সঠিক তদন্ত চাই।
মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত এক চালক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি সাত গাড়ি খোয়া ও কিছু রড সহকারী শিক্ষক মল্লিকের শ্বশুরবাড়ি শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামে নিয়ে গেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, আমি সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে মালামাল কিনেছি। মালামালের ডাক হয়েছে এবং নিয়ম মেনেই কিনেছি। নিলামে কেনা মালামাল শ্বশুরবাড়িতে নয়, নিজের বাড়িতে নিয়েছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মানিক গণমাধ্যমকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করে একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। রেজুলেশনে বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইউএনওর স্বাক্ষর নেই। তবে বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ও অতিরিক্ত মালামাল যথাযথ প্রক্রিয়া ও বিধি অনুসরণ করেই বিক্রি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। মালামাল বিক্রির টাকা দিয়ে শিক্ষকদের আনন্দভ্রমণে যাওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই। কোনো রেজুলেশনে আমি স্বাক্ষর করিনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়া, বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন এবং বিক্রির অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে এসব বিষয় স্বচ্ছভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি তাঁদের।