ভৈরবে ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষে সফল কৃষক, বাড়ছে অন্যদের আগ্রহ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-11-02 08:13:26 · স্টাফ রিপোর্টার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রথমবারের মতো আধুনিক ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান। এ পদ্ধতিতে কলার কাঁদি ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখায় ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফল রক্ষা করা যায়। পাশাপাশি কলার আকার বড় হয়, রং ও গুণগত মান বজায় থাকে। বিষ প্রয়োগ ছাড়াই উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে এসব কলার চাহিদা ও দামও তুলনামূলক বেশি। তাঁর সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকদের মধ্যেও এ পদ্ধতিতে কলা চাষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে হাফিজুর রহমান প্রায় দুই বিঘা জমিতে নেপালি জাতের ৪০০টি কলার চারা রোপণ করেন। ব্যাগিং পদ্ধতিসহ চাষাবাদে তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। চারা রোপণের কয়েক মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। কলার কাঁদি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিশেষ ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এতে কোনো ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই কলার গুণগত মান ও আকর্ষণীয় রং বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছেন। জমিতে থাকা অবশিষ্ট কলা বিক্রি করে আরও প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলার আকার বড় হয় এবং ফলের রং নষ্ট হয় না। ফলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক রাসেল আহমেদ বলেন, “ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষ আমাদের এলাকায় এই প্রথম। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি ছড়িতে ২০ থেকে ২২টি কাঁদি এবং প্রতিটি কাঁদিতে ১৫ থেকে ২০টি কলা পাওয়া যায়। ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখায় পোকামাকড় কোনো ক্ষতি করতে পারে না। হাফিজুরের সাফল্য দেখে আমরাও এখন এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
কৃষাণী রুবিয়া বেগম বলেন, “হাফিজুরের এই চাষাবাদ দেখে আমাদেরও ভালো লেগেছে। আমরাও আগামীতে এই পদ্ধতিতে কলা চাষ করব।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, “ভৈরবে এই প্রথম আধুনিক ব্যাগিং পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে কলা চাষ করা হয়েছে। বিষমুক্ত, সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় রঙের কারণে বাজারে এই কলার চাহিদা ও দাম দুটিই বেশি। কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, আগামীতে এই এলাকায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।”