প্রাথমিক শিক্ষকদের পদ ও বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আসছে
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-16 21:21:22 · স্টাফ রিপোর্টার
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদ ও বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে নতুন শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, ‘নতুন নীতিমালায় শিক্ষকদের পদ বাড়ানো, প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং বেতন স্কেল উন্নীত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’
রোববার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির (নেপ) অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) নতুন শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। শিগগিরই এর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’
শিক্ষকসংকট প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মামলা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে সমস্যা ছিল। এরই মধ্যে অনেক জটিলতা কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব পদে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে পিএসসির সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, নাকি অন্য কোনো বিদ্যালয়ে যাচ্ছে এটি মূল বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সব শিশু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না এবং সেখানে মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে কি না।’
তিনি বলেন, ‘চার থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের যারা শিক্ষা দেবে, সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যালয়কে একটি নীতিমালার আওতায় আনার কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য হলো কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে। প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও নাগরিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও কার্যকরভাবে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষক যুক্ত করার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা এবং প্রশাসনিক নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা এবং বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে মধ্যাহ্নভোজ, বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার মতো বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালাটি পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।