মোহনগঞ্জে অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার চুরি, সেচ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-17 14:57:54 · স্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েক মাস ধরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্থানীয় কার্যালয়ের হিসাবে, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৫টি।
উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর, বড়তলী-বানিয়াহারী, তেঁতুলিয়া, সমাজ-সহিলদেও, সোয়াইর ও গাগলাজুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ট্রান্সফরমার নেই। এতে সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, আগামী ইরি-বোরো মৌসুমের আগে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলো পুনঃস্থাপন করা না হলে সেচের অভাবে অনেক জমি অনাবাদি থাকতে পারে।
৪ নম্বর মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন রনু বলেন, গত ১৮ আগস্ট রাতে তার সেচের ট্রান্সফরমার চুরি হয়। তার ভাষ্য, বিদ্যুতের সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়া সহজ নয়। এ কারণে তিনি এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের সম্পৃক্ততার সন্দেহ করেন।
একই ইউনিয়নের পেরিরচর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সেচের ট্রান্সফরমারও চুরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লাগবে। এত টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কেনার সামর্থ্য আমার নেই।’
৬ নম্বর সোয়াইর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের কৃষক বজলুর রশিদ খান বলেন, তার সেচের ট্রান্সফরমার দুবার চুরি হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে বিদ্যুৎ কার্যালয় ও থানায় যোগাযোগ করেও তিনি কোনো সমাধান পাননি বলে জানান।
মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, জুনে ১৫টি, জুলাইয়ে ১৩টি, আগস্টে ৯টি এবং সেপ্টেম্বর মাসে এ পর্যন্ত দুটি ট্রান্সফরমার চুরির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে গ্রাহকদের বিনামূল্যে নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, পল্লী বিদ্যুতে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। তবে সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দিলে দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে এ চক্রের কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চুরি বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।